প্রতিচ্ছবি

যা যেমন ছিল তা তেমন থাকলো, 

শুধু আমি আলাদা হলাম, 

দূর কোথাও যেতে পারব না তবে আয়নার অন্যপাশে লুকালাম। 

চাইলেও ছবিতে আমাকে দেখতে পাবে না, 

জোরচেষ্টা করলে প্রতিচ্ছবি অস্পষ্ট হবে।

উদাস মাঝি

ছুটি কাটাবার জন্য ফুটানিবাবু পাটন থেকে পাড়াগাঁ এসেছেন। পারঘাটে দাঁড়িয়ে ফাঁটফাঁটি শুরু করলে হঠাৎ পা পিছলে চিৎপটাং। বাবুর হাতে বৈঠা দিয়ে পাটনি পিটটান করে। বেচারা ফুটানিবাবু, সেই থেকে গলুইয়ে বসে দুঃখের বারোমাসি গায়।

এক ফাঁকিবাজ পারঘাটে পৌঁছে নতুন পাটনিকে দেখে চিন্তিত হয়। বকেয়ার খাতায় তার নাম একাধিকবার লেখা। নতুন পাটনির দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, ‘অনাদায়ি টাকা দিয়ে আজ আমি বাঁশরি কিনব।’
পাটনি তখন স্বরগ্রাম চর্চা করছিল, ‘গ্রামিক হওয়ার জন্য গ্রামে এসে গ্রাম্য হয়েছি, গ্রামোফোনে গান শুনে গ্রামান্তরে পৌঁছেছি।’
মাঝিকে ডেকে ফাঁকিবাজ বলল, ‘ও উদাস মাঝি! আজ এত উদাস কেন?’
‘আমার সোনাবউ নাইয়র গিয়েছে। মন খালি আনচান আনচান। বুকের ভিতর টনটন উচাটন।’
‘কারবার শেষ! আজ আর কেউ বাজারে যেতে পারব না। গাঙ ভরা পানি। খালে বিলে শুশুক আছে। ধরতে পারলে কামড়িয়ে খাবে। ও মাঝি ভাই। আরে মিঞাভাই এপারে আসুন। আপনার সাথে গপসপ করতে চাই।’
‘আজ না বেনিয়া ভাই। পারলে কলাগাছের ভেলায় বসে বাজারে চলে যান। আমার সোনাবউ বেনারসির জন্য বায়না ধরেছে। আজ আর বউনি করব না।’
‘দৌড়ে এপারে আসুন, অনাদায়ি টাকা দিয়ে বিদেশি বেনারসি কিনে দেব। দাদার বান্ধবী আমার বউকে দাদনে কয়েকখান দিয়েছিলেন। দৌড়ে আসুন।’
‘আপনি হয়তো জানেন না, পাটব হওয়ার জন্য আমি পাটনাই গিয়েছিলাম। পাটিপত্র ঠিকঠাক করার জন্য পাটন থেকে পাটনি এসেছিল। বনিবনা না হলে লেনদেন চুকাবার জন্য কেউ পাটকেল মেরেছিল। সেই থেকে উদাস মাঝি হয়েছি।’
‘আজ আমি শেষ! বাজারে না গেলে পাটকাঠির বাড়ি একটাও মাটিতে পড়বে না। মাঝিভাই! তোমার হাতে পায়ে ধরি আমারে গাঙ পার করে দাও।’
‘আপনি নিশ্চয় জানেন, বিনয়ীরা বিনম্র বচনে ভাব প্রকাশ করে। আজ আমি বিনয়নে বিনয়ী হতে চাই।’
‘খাইছে আমারে। উদাস মাঝিকে আজ কবিতার ভূতে জেঁতেছে। ও মাঝভাই আমি বিশ্বাস করি আপনি বিনয়ী।’
‘ভাই গো, জাঁকের জা জাঁতা কিনে বেজুত হয়েছে, জাঁদরেল জহুরি জাঁকড়ে জাওলা বেচে পালিয়েছে।’
‘বুঝেছি ফক্কড়ের খপ্পরে পড়ে ফড়িঙ্গা আজ ফক্কিকা হয়েছে। মাঝিভাই, জীবনে আর ফক্কুড়ি করব না। আমাকে পার করে দাও। আমার গলার ফকরে মালা তোমাকে দান করব।’
‘আমাকে কিচ্ছু দিতে হবে, শুধুমাত্র একটি বার এই বৈঠার মুঠা ধরলে হবে।’
‘দূর যা! আমি আর গাঙ পার হব না।’
স্বত্ব মো.আ.হা

আমীরুল মু’মিনীন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)

খলিফাতুল মুসলিমীন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন শাম থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনায় আগমন করলেন, মানুষের অগোচরে চুপিসারে বেরিয়ে পড়লেন প্রজাদের অবস্থা জানার জন্যে। ঘুরতে ঘুরতে তিনি একটি তাবুর ভেতরে একজন বৃদ্ধাকে দেখতে পেলেন। সেই তাবুকে লক্ষ্য করে তিনি সামনে এগোলেন।
.
.
ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে বৃদ্ধা চিনতে পারেনি, তাই বৃদ্ধা স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করে উঠলো, এই যে! ওমর কী করছেন?
-তিনি শাম থেকে নিরাপদ ফিরে এসেছেন।
- আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে যেনো কোনো মঙ্গল দান না করেন!
- কেনো হে বুড়িমা?! 
- তিনি যখন থেকে খিলাফতের মসনদে আসীন হয়েছেন, সেদিন থেকে আমি তাঁর পক্ষ থেকে কোনো দিরহাম-দীনার দান হিসেবে পাইনি! 
-আপনি এই জায়গায় আছেন, ওমর কি তা জানেন? 
- সুবহানাল্লাহ! যদি কেউ মানুষের শাসনভার গ্রহন করে, তাহলে সে তার রাজ্যের পূর্ব থেকে পশ্চিমের মধ্যকার হালত জানতে পারবেনা- তা তো আমার জানা নয়! 
.
ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কেঁদে ফেললেন! অতঃপর নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, হায় ওমর! তোমার বিরুদ্ধে বৃদ্ধারাও অভিযোগ করছে! 
.
অতঃপর ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর বান্দী! ওমরের পক্ষ থেকে কৃত অন্যায়কে আপনি আমার কাছে কত টাকার বিনিময়ে বিক্রি করবেন? আমি ওমরকে দোযখ থেকে বাঁচাতে রহম করবো।
- তুমি আমার সাথে মশকারি করছো?! তোমার উপর যে আল্লাহ রহম করবেন- তার নিশ্চয়তা আছে? 
- আমি মশকারি করছিনা।
.
এভাবে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বৃদ্ধার সাথে দর কষাকষি করতে থাকলেন। শেষপর্যন্ত পনেরো দীনারের বিনিময়ে খলিফা ওমরের কৃত অন্যায়কে খরিদ করে নিলেন।
.
ইত্যবসরে সেখানে আগমন করলেন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। উভয়েই ওমর রা. কে সালাম দিলেন- আসসালামু আলাইকুম হে আমীরুল মু’মিনীন! 
.
.
সাথে সাথে বৃদ্ধা মাথায় হাত দিলো! একপ্রকার ভড়কে গিয়ে বললো, হায় আমার বরবাদী! আমি আমীরুল মু’মিনীনকে তার সামনেই অপমান করলাম! 
- কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন।
.
অত:পর ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বিনিময় পরিশোধ করতে চাইলেন, কিন্তু পরিশোধ করার মত কোনো টাকা-পয়সা পেলেননা। অতঃপর তাঁর তালিযুক্ত কাপড় থেকে একটুকরো তালি ছিঁড়ে সেখানে লিখলেন-
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ইহা ওমর যে তাঁর কৃত অন্যায়কে পনেরো দীনারের বিনিময়ে খরিদ করেছেন, সেটার চুক্তিপত্র। সুতরাং হাশরের ময়দানে আল্লাহর সামনে ওমরের দণ্ডায়মান অবস্থায় বৃদ্ধা যে অভিযোগ করবে, তা থেকে ওমর মুক্ত। অমুক বৃদ্ধার পক্ষ হতে এই চুক্তিপত্রের সাক্ষী হলেন আলী ইবনে আবু তালিব ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ।’
.
.
আবু তালহা রা. বলেন, অতঃপর তিনি চুক্তিপত্রটি আমাকে দিলেন, এবং বললেন, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তখন ইহা আমার কাফনের ভেতর রেখে দিবেন। এই চুক্তিপত্র নিয়েই আমি আল্লাহর মোলাকাত করবো।
.
সূত্র-
.
* সিমত্বুন নুজূমিল আওয়ালী। আল্লামা আব্দুল মালিক আল-ঈসামী।
* রিয়াযুন নাযিরাহ ফী মানাক্বিবিল আশারাহ। ইমাম ত্বাবারী রাহ.।

সত্য কী আর মিথ্যা কী?

ওরা যখন বলে, এখন গান বাজনা বাদ দিয়ে খালি গলায় চিল্লাও। তখন আমরা চিল্লাতে শুরু করি। ওরা যখন বলে, এখন তোমরা একে অন্যকে হত্যা করো, তখন আমরা মনানন্দে হন্তা হই। ওরা যখন বলে এখন তোমরা সাধু হও। আমরা সাধুর বেশ ধরে বসি।

মুসলমানকে মেরে ওরা মুসলমানকেই নাচাচ্ছে।
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখো, হন্তা কে?

ইয়া আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করো। নিশ্চয় আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।

কয়েকটা সুরা

For more

জীবন দর্শন

কারু কাছে কিছু থাকলে, তার মনে হারাবার ভয় থাকে। আমার কিছুই নেই, বিধেয় মনে হারাবার ভয়ও নেই। আমি জানি আমি যে কাংগাল। কাংগালের মনে হারাবার ভয় থাকে না। কাংগালকে কিছু দিলে, দাতার মন স্বস্তি লাভ করে। আমি তার দয়ার কাংগাল যে সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করেছেন এবং শান্তি স্বস্তির এক মাত্র মালিক।

ভাষাবিদ

ভাষাবিদ হতে হলে বাক্য ঘটনে পারদর্শী হতে হয়। বাক্যে ব্যাকরণ থাকে এবং ভাষকের মনের ভাব প্রকাশ হয়। যে বাক্যে মনের ভাব প্রকাশ হয় না সেই বাক্যে নিশ্চয়ই ব্যাকরণদুষ্ট শব্দের অস্তিনাস্তি আছে। ব্যাকরণ শুদ্ধ সংলাপ পড়তে বা শুনতে ভালো লাগে।

আমি এখনো ভাষাবিদ হতে পারিনি।

দুরন্বয় [ duranbaẏa ] বি. বাক্যের মধ্যে কর্তা কর্ম ক্রিয়া প্রভৃতির অস্থানে প্রয়োগ বা বিন্যাসের ফলে যে অন্বয়ের ত্রুটি ঘটে। বিণ. 1 উক্ত দোষযুক্ত; 2 দুর্বোধ্য অন্বয় বা সম্বন্ধবিশিষ্ট (দুরন্বয় বাক্য)। [সং. দুর্ + অন্বয়]।
দুরপনেয় [ durapanēẏa ] বিণ. সহজে মোচন বা দূর করা যায় না এমন (দুরপনেয় অপবাদ, দুরপনেয় কলঙ্ক)। [সং. দুর্ + অপনেয়]।
দুরব-গম, দুরব-গম্য [ duraba-gama, duraba-gamya ] বিণ. দুরধিগম্য, দুর্জ্ঞেয়, সহজে আয়ত্ত করা যায় না এমন। [সং. দুর্ + অবগম, অবগম্য]। ন্ত্রী. দুরব-গম্যা। বি. তা।

রূঢ়ি [ rūḍhi ] বি. 1 উৎপত্তি; 2 প্রসিদ্ধি; 3 বু্যত্পত্তিবহির্ভূত অর্থপ্রকাশের শক্তি; 4 লোকপ্রসিদ্ধি। [সং. রুহ্ + তি]। .শব্দ বি. ব্যাকরণবহির্ভূত কিন্তু লোকপ্রসিদ্ধ শব্দ।