ভাটির দেশের মানুষ

ভাদ্রের দুপুরে সূর্যকানা হয়ে ঘুড়ি দিয়েছিলাম উড়িয়ে,
নাটাই খালি হলে বুঝেছিলাম,
মাঞ্জা দেওয়া সুতা এক ক্রোশ লম্বা ছিল।
ঘোড়ার গাড়িতে বসতে মন চায় না,
গরুর গাড়ি নাকি খুব দ্রুত যায়,
ভাটির দেশের মানুষ, গাড়ি ঘোড়া কিনতে পারি না,
গরু দিয়ে হালচাষ এবং গাড়ি চালাই।

হায়ন আগে …

কবিতার সাথে একবার দেখা হয়েছিল,
আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে গাল ফুলিয়ে বলেছিল,
তুমি এখন আর আমাকে ভালোবাস না।
আমি হাহা করে হেসে বলেছিলাম,
তুই অত্যাধুনিক হয়েছিস কেন?
তোকে দেখলে লজ্জায় লাল হয়ে আমার জ্বর ওঠে। 

মাথা নষ্টের মন্ত্র

কবিতারা এখন বাতাসে বসে গুনগুন করে গান গায়,
কউতররা দুলায় বসে দুল খায়।
কবিদের হাবভাব বুঝি না,
কউতরের কল্লায় গুল্লি মেরে বলে, আজ কবিতা লিখব।
কবিতা লিখে কবিরা সফলও হচ্ছে,
তবে বেশির ভাগ অভাগা, পাতে ভাত পড়ে না।
কবি হতে হলে প্রশান্ত হতে হয়, কবিদের পেট পিঠ নেই।
কল্পনার কল্পনায় কাল্পনিক সব কল্পনা,
আজ কাল জান ডাকলে জানরা ধমকায়।
অনন্তাকাশে মেঘ, পরিবেশ খুব সুন্দর,
জংলায় সোনার হরিণ থাকে, চাইলে ধরা যায় না,
তবে চাইলে পাপমোচন হয়,
শাপমোচন সহজে না হওয়ার কারণ মানুষের মনে দাগা লাগে।
তিন সত্যের এক সত্য মিথ্যা হলে দাঁতে ব্যথা হয়,
তোমারও লাগিয়া মনে আনচান আনচান করে,
মনকে বাঁধার জন্য পাট দিয়ে দড়া বানিয়েছি,
এখানে আবেগপ্রবণ হয়ে লাভ হয় না।
যন্ত্রের ভিতর আন্তরাত্মা নেই,
স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করলে বাস্তব যান্ত্রিক হয়।
হে পাঠক, তব মন্তব্যে মম প্রাণবন্ত হয়েছি,
সবার মঙ্গল হোক, এই কামনা করি।

আমি বন্দে বন্দি

আমি বন্দে বন্দি, চাইলেও বাবুইর মত ডান মেলতে পারি না,
কবিদের কবিতা পড়ে মন নড়াচড়া করে,
কবির মনের কথা পড়ার পর মন বিমনা হয়ে উড়াল দেয়,
রাতের শেষে আরেকটা দিনের শুরু, আবার রাত,
ঠিক তেমন একটা কবিতার পর আরেকটা কবিতা।
কবি! কেউ কিছু করেনি বলে আপনি বসে থাকতে পারবেন না,
আপনার পেট আছে, আছে পিঠ, রোদে মগজ তাতায়, ছাতা লাগবে,
কেউ বানায়নি বলে আপনি তো আর ঠাঠা রোদে পুড়বেন না,
হয়তো কলাগাছের পাতা অথবা গুবাকের খোলে সূর্যকে আড়াল করবেন,
বিধায় কিছু করতে হলে নিজেকেই করতে হয়।
বাবুই বাসা বানাতে পারে, কোকিলা দূর থেকে তাকিয়ে থাকে,
কাক অথবা শালিকের ডিম ফেলে কোকিলের ছানা বড় হয়,
আমরা কি তাইলে অন্য ডিম?

মাত্র চার লাইন

নাই-আঁকড়ারা নাইঘরে খাঁই খাঁই করে,
নাটিকার জন্য নাটুয়া নাটাই হাতে হাঁটে।
নাট্যের জন্য নাইটিংগেল সাজগোজ করে
নাইট্রোজেনে নেয়ে নাইয়া যায় হাটে।

এক ফোঁটা কালি ©

একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম,
খাতায় হাজার পাতা ছিল,
হাতে ছিল যথেষ্ট সময়,
আমি ছিলাম তখন নিরালায় একলা।
স্মৃতিচারণে উত্তেজিত হয়েছিলাম,
কলম হাতে লয়ে আক্কেলগুড়ুম হয়েছিল,
কালি ছিল না, নিব ছিল ভাঙা,
হন্যের মত দোয়াত খুঁজে পেয়ে হতাশ্বাস হয়েছিলাম,
কয়েক হায়ন আগে হয়তো কেউ কিনেছিল,
বুক ভরে দীর্ঘশ্বাস টেনে স্বগতোক্তি করেছিলাম,
কেউ এক ফোঁটা কালি দিলে তাকে ছন্দে বন্দি করতাম,
মানসী, তুমি তখন সানন্দে বলেছিলে এই নাও,
তোমার কবিতায় আমি অমর হতে চাই।

চতুষ্পাদ

চতুষ্পাদে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য চতুষ্পদে চড়ে চতুষ্পাঠীতে যাই,
চতুষ্টয়ে যেয়ে চতুষ্পথে দাঁড়িয়ে আমি সবিস্ময়ে চতুষ্পার্শ্বে তাকাই।
চতুস্তলের চতুস্ত্রিংশে চতুষ্কোণ চত্বর দেখে চত্বারিংশ হাত দূর যাই,
চতুর্যুগে চতুর্বগের চতুর্বিধ চর্চা চতুর্গুণ করে আমি নির্দোষ হতে চাই।

কাকের বিষ্ঠা

আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম,
তুমি আমার ভালোবাসায় ঝামেলা পেয়েছিলে,
আমি কিচ্ছু বলিনি।
আমি তোমাকে গোলাপ দিয়েছিলাম,
হাতে লয়ে তুমি চিৎকার করেছিলে,
তুমি ডালে ধরতে শিখনি,
আঙুলে কাঁটা গেঁথেছিল,
আমি আক্ষিপ্ত হয়েছিলাম।
তুমি বিরক্ত এবং ক্লান্ত হয়ে বটগাছের নিচে বেসেছিলে,
তোমার মাথায় কাকের বিষ্ঠা পড়েছিল,
তুমি চেচামেচি করেছিলে, তোমার মাথায় কাপড় ছিল না,
কিছু হলে সব দোষ আমার।
এখন সিদ্ধান্ত করেছি,
তোমার হাতে মোবাইল দিয়ে টিভেতে বিজ্ঞাপন দেব,
তোমার বন্ধ হওয়ার জন্য।
দেখব কে তোমার সাথে কথা বলে?
স্বত্ব মো.আ.হা

আমি বন্দে বন্দি

আমি বন্দে বন্দি, চাইলেও বাবুইর মত ডান মেলতে পারি না,
কবিদের কবিতা পড়ে মন নড়াচড়া করে,
কবির মনের কথা পড়ার পর মন বিমনা হয়ে উড়াল দেয়,
রাতের শেষে আরেকটা দিনের শুরু, আবার রাত,
ঠিক তেমন একটা কবিতার পর আরেকটা কবিতা।
কবি! কেউ কিছু করেনি বলে আপনি বসে থাকতে পারবেন না,
আপনার পেট আছে, আছে পিঠ, রোদে মগজ তাতায়, ছাতা লাগবে,
কেউ বানায়নি বলে আপনি তো আর ঠাঠা রোদে পুড়বেন না,
হয়তো কলাগাছের পাতা অথবা গুবাকের খোলে সূর্যকে আড়াল করবেন,
বিধায় কিছু করতে হলে নিজেকেই করতে হয়।
বাবুই বাসা বানাতে পারে, কোকিলা দূর থেকে তাকিয়ে থাকে,
কাক অথবা শালিকের ডিম ফেলে কোকিলের ছানা বড় হয়,
আমরা কি তাইলে অন্য ডিম?

কৃচ্ছ্রসাধন

আজ আমি উপাসনায় বসিনি, ওদের ভুষ্টিনাশ করার জন্য অনশন করতে চাই,
আমি ততক্ষণ পর্যন্ত পানি স্পর্শ করব না যতক্ষণ পর্যন্ত ওরা আত্মসমর্পণ করেনি,
আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকব যতক্ষণ পর্যন্ত ওরা তিক্ত সত্য বলেনি,
আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ভাতে হাতে দেব না যতক্ষণ পযর্ন্ত ওরা লুন্ঠিত সম্পদ ফিরিয়ে দেয়নি।
ছলবলে দুর্বলের সম্বল চুরি করে ওরা বিত্তশালী হয়েছে,
অনাথ অসহায়কে হতাশ্বাস করে ওরা আশ্বস্ত হয়েছে,
বিশ্বাসীর পিঠে চাকু মেরে ওরা বিশ্বে বিশ্বস্ত হয়েছে,
বাতাস দুষিত করে ওরা নির্দোষ হতে চায়,
পানিতে বিষ ঘুলে ওরা নিষ্পাপ হতে চায়,
ধর্মের নামে ওরা বারবার মানবতাকে ধর্ষণ করেছে,
আমি এখন শেষ দেখতে চাই, জানতে চাই ওরা কেমনে এত শক্তিশালী হলো?
ওরা আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে, ঘুমে বেঘোর হয়েও স্বপ্ন দেখতে ভয় হয়,
পানি এবং বাতাস স্বর্গেও আছে, তাইলে মর্তে কেন এত হাঁসফাঁস?
ভুখ লাগলে কেউ কি আবেগপ্রবণ হয়? আবেগ শব্দের অর্থে কিচ্ছু পাইনি,
বিধায় আবেগকে বাঘের সামনে বেঁধেছি, দেখি কদিন বাঁচে?
আমি চেষ্টা করে দেখেছি, আবেগপ্রবণ হলে বিদ্রোহী হওয়া যায় না,
বিদ্রোহী হতে হলে হাতে তেগ নিতে হয়, আমি হন্তা হতে চাই না,
নীরব দর্শকের মতো দূরে দাঁড়িয়ে ওদের শক্তিমত্তা দেখতে চাই।
আমি জানি মৃত্যু আমার সাথে আছ, আমি মিথ্যা বলতে চাই না,
প্রলুব্ধ হয়ে মরলে নরকের আগুনে জ্বলত হবে, আমি নির্লোভ হতে চাই,
সত্যাসত্য জানার জন্য কৃচ্ছ্রসাধন করতে চাই।