শুক্রবার

অনেকে মনে করেন কিছু শব্দ ব্যবহারে জনপ্রিয় হওয়া যায়,
হয়তো সত্যি, কিন্তু তা পরে কলঙ্কের কালি হয়, আমি জেনেছি।
শুক্রবার পবিত্র দিন। অন্য দিনের মত নয়। তা শুধু ধার্মিকদের জন্য,
ধর্মাত্মারা শুক্রবারকে সম্মান করেন, অনেকে অশ্লীল শব্দে কবিতা লিখেন,
খুব ভালো, কিন্তু কী বুঝাতে চান আমি বুঝি না, কারণ আমি মুসলমান।
জানি এবং মানি আমি পাপের সাগরে ডুবেছি, তবুও শুক্রবারকে সম্মান করি,
শনিবার এবং রবিবারও পবিত্র, অন্য ধর্মের লোকরা অন্য দিন আরাধনা করেন।
ধর্মপালন এবং ভাব প্রকাশ সবার ব্যক্তিগত বিষয়, আমিও মতামত প্রবাশ করি,
শুধু বলব, কিছু শব্দে লজ্জিত হতে হয়, শুধু তাদের জন্য যাদের লজ্জা আছে।

আধুনিক কবিতা

সূর্যকে খাঁচায় বন্দি করতে চেয়ে আমি আয়নায় প্রবেশ করছিলাম,
খাঁচাটা আসলে বাঁশের ছিল, এটাই ছিল আমার মারাত্মক ভুল,
খাঁচার পাখিরা পুড়ে ছাই হলে সূর্যের তাপে পানি বাষ্প হয়েছিল,
ভাগ্যিস অন্ধকারে ছিলাম, দিনের ভিতর থাকলে আমিও ভস্ম হতাম।

শব্দের খেলা

সাধকরা জানে অসাধুর পাতে অস্বাদু খাবার পড়ে,
সাধুরা মরিয়া হলে তা হবে অস্বাভাবিক,
অস্বাতন্ত্র্য এখন সর্বত্রে অস্বস্তি মনে অস্বাচ্ছন্দবোধ,
অস্বাচ্ছন্দ্যে সাধনা হয় না।
সাধকরা জানে অষ্ফুট ফুলে ভ্রমরী বসে না,
অস্পৃষ্ট ফুলে মধু জমে থাকে।
অস্বচ্ছ জলে স্নান করলে মন স্বচ্ছ হয় না,
চাইলেও অস্পৃশ্যকে ভালোবাসা যায় না,
অস্পষ্টালোকে সব অস্পষ্ট এবং স্পৃশ্যরাই পৃষ্ট হয়।
সুন্দর দেখতে খুব ভালো লাগে,
সব সুন্দরে আনন্দ থাকে না,
সত্যাসত্য যখন জানি তখন বেশি দেরি হয়।
সত্য সুন্দর হলেও সর্বজনীন অগ্রহনযোগ্য,
বিধায় সত্য জানার জন্য আমি অপেক্ষমাণ।

ভাটির দেশের মানুষ

ভাদ্রের দুপুরে সূর্যকানা হয়ে ঘুড়ি দিয়েছিলাম উড়িয়ে,
নাটাই খালি হলে বুঝেছিলাম,
মাঞ্জা দেওয়া সুতা এক ক্রোশ লম্বা ছিল।
ঘোড়ার গাড়িতে বসতে মন চায় না,
গরুর গাড়ি নাকি খুব দ্রুত যায়,
ভাটির দেশের মানুষ, গাড়ি ঘোড়া কিনতে পারি না,
গরু দিয়ে হালচাষ এবং গাড়ি চালাই।

হায়ন আগে …

কবিতার সাথে একবার দেখা হয়েছিল,
আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে গাল ফুলিয়ে বলেছিল,
তুমি এখন আর আমাকে ভালোবাস না।
আমি হাহা করে হেসে বলেছিলাম,
তুই অত্যাধুনিক হয়েছিস কেন?
তোকে দেখলে লজ্জায় লাল হয়ে আমার জ্বর ওঠে। 

মাথা নষ্টের মন্ত্র

কবিতারা এখন বাতাসে বসে গুনগুন করে গান গায়,
কউতররা দুলায় বসে দুল খায়।
কবিদের হাবভাব বুঝি না,
কউতরের কল্লায় গুল্লি মেরে বলে, আজ কবিতা লিখব।
কবিতা লিখে কবিরা সফলও হচ্ছে,
তবে বেশির ভাগ অভাগা, পাতে ভাত পড়ে না।
কবি হতে হলে প্রশান্ত হতে হয়, কবিদের পেট পিঠ নেই।
কল্পনার কল্পনায় কাল্পনিক সব কল্পনা,
আজ কাল জান ডাকলে জানরা ধমকায়।
অনন্তাকাশে মেঘ, পরিবেশ খুব সুন্দর,
জংলায় সোনার হরিণ থাকে, চাইলে ধরা যায় না,
তবে চাইলে পাপমোচন হয়,
শাপমোচন সহজে না হওয়ার কারণ মানুষের মনে দাগা লাগে।
তিন সত্যের এক সত্য মিথ্যা হলে দাঁতে ব্যথা হয়,
তোমারও লাগিয়া মনে আনচান আনচান করে,
মনকে বাঁধার জন্য পাট দিয়ে দড়া বানিয়েছি,
এখানে আবেগপ্রবণ হয়ে লাভ হয় না।
যন্ত্রের ভিতর আন্তরাত্মা নেই,
স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করলে বাস্তব যান্ত্রিক হয়।
হে পাঠক, তব মন্তব্যে মম প্রাণবন্ত হয়েছি,
সবার মঙ্গল হোক, এই কামনা করি।

আমি বন্দে বন্দি

আমি বন্দে বন্দি, চাইলেও বাবুইর মত ডান মেলতে পারি না,
কবিদের কবিতা পড়ে মন নড়াচড়া করে,
কবির মনের কথা পড়ার পর মন বিমনা হয়ে উড়াল দেয়,
রাতের শেষে আরেকটা দিনের শুরু, আবার রাত,
ঠিক তেমন একটা কবিতার পর আরেকটা কবিতা।
কবি! কেউ কিছু করেনি বলে আপনি বসে থাকতে পারবেন না,
আপনার পেট আছে, আছে পিঠ, রোদে মগজ তাতায়, ছাতা লাগবে,
কেউ বানায়নি বলে আপনি তো আর ঠাঠা রোদে পুড়বেন না,
হয়তো কলাগাছের পাতা অথবা গুবাকের খোলে সূর্যকে আড়াল করবেন,
বিধায় কিছু করতে হলে নিজেকেই করতে হয়।
বাবুই বাসা বানাতে পারে, কোকিলা দূর থেকে তাকিয়ে থাকে,
কাক অথবা শালিকের ডিম ফেলে কোকিলের ছানা বড় হয়,
আমরা কি তাইলে অন্য ডিম?

মাত্র চার লাইন

নাই-আঁকড়ারা নাইঘরে খাঁই খাঁই করে,
নাটিকার জন্য নাটুয়া নাটাই হাতে হাঁটে।
নাট্যের জন্য নাইটিংগেল সাজগোজ করে
নাইট্রোজেনে নেয়ে নাইয়া যায় হাটে।

এক ফোঁটা কালি ©

একটা কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম,
খাতায় হাজার পাতা ছিল,
হাতে ছিল যথেষ্ট সময়,
আমি ছিলাম তখন নিরালায় একলা।
স্মৃতিচারণে উত্তেজিত হয়েছিলাম,
কলম হাতে লয়ে আক্কেলগুড়ুম হয়েছিল,
কালি ছিল না, নিব ছিল ভাঙা,
হন্যের মত দোয়াত খুঁজে পেয়ে হতাশ্বাস হয়েছিলাম,
কয়েক হায়ন আগে হয়তো কেউ কিনেছিল,
বুক ভরে দীর্ঘশ্বাস টেনে স্বগতোক্তি করেছিলাম,
কেউ এক ফোঁটা কালি দিলে তাকে ছন্দে বন্দি করতাম,
মানসী, তুমি তখন সানন্দে বলেছিলে এই নাও,
তোমার কবিতায় আমি অমর হতে চাই।

চতুষ্পাদ

চতুষ্পাদে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য চতুষ্পদে চড়ে চতুষ্পাঠীতে যাই,
চতুষ্টয়ে যেয়ে চতুষ্পথে দাঁড়িয়ে আমি সবিস্ময়ে চতুষ্পার্শ্বে তাকাই।
চতুস্তলের চতুস্ত্রিংশে চতুষ্কোণ চত্বর দেখে চত্বারিংশ হাত দূর যাই,
চতুর্যুগে চতুর্বগের চতুর্বিধ চর্চা চতুর্গুণ করে আমি নির্দোষ হতে চাই।