কিছু বিষয়

কিছু বিষয় আছে বিবেক বুদ্ধি খাটিয়ে বুঝতে হয়।
কিছু বিষয় আছে, না বুঝে না খুঁজে চর্চা করলে নিজের ক্ষতি হয়।
কিছু বিষয় আছে বুঝেশুঝে করতে হয়।
কিছু বিষয় আছে দূরে থাকতে হয়।
কিছু বিষয় আছে বুঝেও না বুঝার ভান করতে হয়।
কিছু বিষয় বুঝে এবং কিছু না বুঝে বিষয় আশয় নিয়ে ব্যস্ত আছি।
স্বত্ব মো.আ.হা

“আনুপাতিক সমতা”

বাসার আশেপাশে laughing gas এর canister পড়ে থাকে,
বাতাস ভারী হয় গাঁজা আর হাসির গ্যাসে,
বাতাস দূষিত হচ্ছে Carbon monoxide এ,
ফুঁসফুঁসে সমস্যা হয় পার্কে হাঁটতে গেলে,
পানিতে nuclear waste, বিষাক্ত খাবার Genetically modified,
প্রতিরোধের জন্য কেউ কি কিছু করছে?
আমি চিৎকার করে বলব, না! কেউ কিচ্ছু করেনি, ওরা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত,
অনাথ অসহায়কে হত্যা করে অট্টহাসি হাসে আর বলে,
শান্তি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমরা দূত হয়েছি।
সমাজ এবং দায়বদ্ধ শব্দের অর্থ আমি জানি না,
আমি সাধারণ জনতা, দূরে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক কথাবর্তা শুনি,
রাজনীতিবিদরা আমাকে আশ্বাস দেয়, চিন্তা করিস না সব ঠিকঠাক আছে।
আমি অবজ্ঞার হাসি হেসে বলি, হ্যাঁ সব ঠিকঠাক আছে,
তোর মোটা পেট মোটাই হচ্ছে, আমার তো আর পেটই নেই।
স্বত্ব মো.আ.হা

 

গণপ্রজাতন্ত্র এবং দাসত্ব

জনগণ যুদ্ধ করে, দেশ স্বাধিন হয়।
জনগণ ভোট দেয়, জনগণ স্বপ্ন দেখে,
সুখের সূর্য উঠবে।
জনগণ মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হালচাষ করে,
জনগণ পাতে ভাত পায় না।
জনগণ ঋণ পরিশোধ করে,
জনগণ সুদ ঘুষ দেয়, কাজের কাজ কিচ্ছু হয়না।
জনগণ এত সব করে,
শক্তিশালী হয় কিছু লোক যারা জনগণের সেবক।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণ বিক্রিত এবং ভিখারি হয়েছে,
জনগণ তা জানে না,
গণপ্রজাতন্ত্র এবং দাসত্বের অর্থ জনগণ জানতেও চায় না।

‘জীবনাকাশের সূর্য’

[সাতাশ পদ]
আজ একটু গপসপ করতে চাই,
আপনাদের সময় আছে তো?
বিমনা মনে অনেক কষ্ট,
বুকের ভিতর আনচান আনচান ভাব,
জানি না কেন এ অস্থিরতা?
নির্জন নিরলায় যেয়ে বসতে চাই,
আত্মায় জমা কষ্ট নোনা জলে ভাসাতে,
সময় কি হবে?
জানেন, মানব জীবন সত্যি কৌতূহলোদ্দীপক।
ব্যাঙাচি আদলের শুক্র থেকে শুরু, শেষ হয় লম্বা হয়ে শোয়ে,
সত্য জেনে এবং বাস্তবতা দেখে আমি হতবাক!
চোখে রাজ্যের বিস্ময়,
সবকিছু কেমন যেন বুদ্ধির বার,
দিনরাত চিন্তা করেও আয়ত্তে আনতে পারি না,
বিমনা মনকে নিয়ে দায়ে ঠেকেছি।
গন্তব্য কোথায় জানি, পথ সত্যি অত্যন্ত দূর্গম,
জীবনাকাশের সূর্য মধ্যাকাশ পাড়ি দিয়েছে,
বেলা এখন ভাটি,
মন মাঝি বৈঠা তুলে গলুইয়ে লম্বা হয়ে শোয়ে বলছে,
তুই নাও বা।
আমি বিশ্বাস করি সবাই সুখ চায়,
বিফলতা বলতে কিছু নেই, আছে শুধু সফলতা,
সরল রেখায় আমাদের জীবন শুরু হয়,
পরে আস্তেধীর মোড় বদলে,
আম গাছে বসে কুটুম পাখিরা কুটুম কুটুম ডাকে,
কুটুমের মুখ এখন আর দেখা হয় না,
চিন্তায় আছি আমি চিন্তক হতে চাই না।

‘শখের কাজ’

[ঊনিশ পদ]
কবিতা হলো শখের কাজ,
পেশা বানাতে চাইলে সর্বনাশ হয়,
মাথা নষ্টের মন্ত্র হয়ে কবিতারা এখন স্বাধীন,
বাতাসে বসে গুনগুন করে গান গায়,
কউতররা দোলনায় বসে দুল খায়।
কবিদের হাবভাব বুঝি না,
কউতরের কল্লায় গুল্লি মেরে বলে, আজ কবিতা লিখব।
কবিতা লিখে কবিরা সফলও হচ্ছে,
তবে বেশির ভাগ অভাগা, পাতে ভাত পড়ে না,
কবি হতে হলে প্রশান্ত হতে হয়, কবিদের পেট পিঠ নেই।
কষ্টে ক্লিষ্ট হলে মন অতিষ্ট হয়,
সৎকর্মে স্বর্গ মিলে, অসৎরা নরকে যাবে,
কল্পনার কল্পনায় কাল্পনিক সব কল্পনা,
আঁধারের গল্প শুনলে ভয়ে কলিজা কাঁপে,
আজকাল জান ডাকলে জানরা ধমকায়।
অনন্তাকাশে মেঘ, পরিবেশ খুব সুন্দর,
জংলায় সোনার হরিণ থাকে,
চাইলে ধরা যায় না, তবে চাইলে পাপমোচন হয়,
শাপমোচন সহজে না হওয়ার কারণ মানুষের মনে দাগা লাগে।

শুক্রবার

অনেকে মনে করেন কিছু শব্দ ব্যবহারে জনপ্রিয় হওয়া যায়,
হয়তো সত্যি, কিন্তু তা পরে কলঙ্কের কালি হয়, আমি জেনেছি।
শুক্রবার পবিত্র দিন। অন্য দিনের মত নয়। তা শুধু ধার্মিকদের জন্য,
ধর্মাত্মারা শুক্রবারকে সম্মান করেন, অনেকে অশ্লীল শব্দে কবিতা লিখেন,
খুব ভালো, কিন্তু কী বুঝাতে চান আমি বুঝি না, কারণ আমি মুসলমান।
জানি এবং মানি আমি পাপের সাগরে ডুবেছি, তবুও শুক্রবারকে সম্মান করি,
শনিবার এবং রবিবারও পবিত্র, অন্য ধর্মের লোকরা অন্য দিন আরাধনা করেন।
ধর্মপালন এবং ভাব প্রকাশ সবার ব্যক্তিগত বিষয়, আমিও মতামত প্রবাশ করি,
শুধু বলব, কিছু শব্দে লজ্জিত হতে হয়, শুধু তাদের জন্য যাদের লজ্জা আছে।

আধুনিক কবিতা

সূর্যকে খাঁচায় বন্দি করতে চেয়ে আমি আয়নায় প্রবেশ করছিলাম,
খাঁচাটা আসলে বাঁশের ছিল, এটাই ছিল আমার মারাত্মক ভুল,
খাঁচার পাখিরা পুড়ে ছাই হলে সূর্যের তাপে পানি বাষ্প হয়েছিল,
ভাগ্যিস অন্ধকারে ছিলাম, দিনের ভিতর থাকলে আমিও ভস্ম হতাম।

শব্দের খেলা

সাধকরা জানে অসাধুর পাতে অস্বাদু খাবার পড়ে,
সাধুরা মরিয়া হলে তা হবে অস্বাভাবিক,
অস্বাতন্ত্র্য এখন সর্বত্রে অস্বস্তি মনে অস্বাচ্ছন্দবোধ,
অস্বাচ্ছন্দ্যে সাধনা হয় না।
সাধকরা জানে অষ্ফুট ফুলে ভ্রমরী বসে না,
অস্পৃষ্ট ফুলে মধু জমে থাকে।
অস্বচ্ছ জলে স্নান করলে মন স্বচ্ছ হয় না,
চাইলেও অস্পৃশ্যকে ভালোবাসা যায় না,
অস্পষ্টালোকে সব অস্পষ্ট এবং স্পৃশ্যরাই পৃষ্ট হয়।
সুন্দর দেখতে খুব ভালো লাগে,
সব সুন্দরে আনন্দ থাকে না,
সত্যাসত্য যখন জানি তখন বেশি দেরি হয়।
সত্য সুন্দর হলেও সর্বজনীন অগ্রহনযোগ্য,
বিধায় সত্য জানার জন্য আমি অপেক্ষমাণ।

ভাটির দেশের মানুষ

ভাদ্রের দুপুরে সূর্যকানা হয়ে ঘুড়ি দিয়েছিলাম উড়িয়ে,
নাটাই খালি হলে বুঝেছিলাম,
মাঞ্জা দেওয়া সুতা এক ক্রোশ লম্বা ছিল।
ঘোড়ার গাড়িতে বসতে মন চায় না,
গরুর গাড়ি নাকি খুব দ্রুত যায়,
ভাটির দেশের মানুষ, গাড়ি ঘোড়া কিনতে পারি না,
গরু দিয়ে হালচাষ এবং গাড়ি চালাই।