সীমান্ত

সব কিছুর সীমা আছে, শুধু ভালোবাসা অসীম,
তা অনেকে বললেও আমি সত্যাসত্য জেনেছি,
আসলে সবকিছুর সত্যি সীমা আছে,
চাইলেও কানীনকে সবাই ভালোবাসতে পারে না।
ভালোবাসার সীমা পার হলে কলঙ্কিনীরা সকাল সকাল বেরোয়,
বিকেল বেলা দেরি করে বাসায় ফিরার কারণ কলঙ্কের সীমা আছে,
বিধায় চাইলেও কেউ কলঙ্কের চতুঃসীমার বাইরে যেতে পারে না।
আয়ূর সীমা পার হলে মৃত্যুর সাথে সাক্ষাৎ হয়,
দেহ নিথর হলে সীমার ভিতর সৎকার করতে হয়।
আকাশেরও সীমা আছে,
অসীম শুধু স্রষ্টা। কারণ, সীমাকে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন।

শব্দের খেলা

সাধকরা জানে অসাধুর পাতে অস্বাদু খাবার পড়ে,
সাধুরা মরিয়া হলে তা হবে অস্বাভাবিক,
অস্বাতন্ত্র্য এখন সর্বত্রে অস্বস্তি মনে অস্বাচ্ছন্দবোধ,
অস্বাচ্ছন্দ্যে সাধনা হয় না।
সাধকরা জানে অষ্ফুট ফুলে ভ্রমরী বসে না,
অস্পৃষ্ট ফুলে মধু জমে থাকে।
অস্বচ্ছ জলে স্নান করলে মন স্বচ্ছ হয় না,
চাইলেও অস্পৃশ্যকে ভালোবাসা যায় না,
অস্পষ্টালোকে সব অস্পষ্ট এবং স্পৃশ্যরাই পৃষ্ট হয়।
সুন্দর দেখতে খুব ভালো লাগে,
সব সুন্দরে আনন্দ থাকে না,
সত্যাসত্য যখন জানি তখন বেশি দেরি হয়।
সত্য সুন্দর হলেও সর্বজনীন অগ্রহনযোগ্য,
বিধায় সত্য জানার জন্য আমি অপেক্ষমাণ।

কবিতার ভর (২)

সফলতার সাথে সবাই সামনে চলে যায়,
শুধু আমি পিছনে পড়ে থাকি,
সময় আমার সামনে বদলে, আমি বদলাতে পারি না,
এর নামই হয়তো বিফলতা?
 
পরিবর্জন পরিপ্রেক্ষিতে মন পরিবর্ধক হতে চায়,
পরিবাদে পরিবর্তন হয় না,
জীবন থামলেও সময় থামে না, পৃথিবী ঘুরতে থাকে।
 
ভালো থাকতে হয়, চেষ্টা না করলে পলকে মন্দ হবে,
মন সুন্দর হলে সব সুন্দর,
মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলে মিলনে দুঃখ লাঘব হবে।
 
 
পরিবেশ পরিবর্তনশীল এবং মানুষের মনে লোভ আছে,
সাগরে নুন এবং মুক্তা জন্মে দেখে বিপাকে পড়তে চাই না,
সেই সাগরে ভাসতে চাই যে সাগরে জল নেই তবে দয়া আছে।
 
নিন্দা করে নিন্দার্হ হতে চাই না,
নিন্দকরা নিন্দা করে নিন্দনীয় হয়,
নিন্দনে নিনু হলে সত্তা নিরানন্দ হবে,
গুণনিধি হতে চেয়ে মন নিনু হলো নিন্দিত।
 
নুনে জরজর খাবার খেয়ে মন বলেছিল,
হে দেহ তুমি কেন জরাজীর্ণ হলে?
জবাবে বলেছিলাম, জরদ্গব হাম্বা ডাকতে পারে না,
তার জঠরে জোর থাকে না,
জর্দা বেশি কড়া, খালি পেটে চিবালে কলিজা মোচড়ায়,
জরায় জড় হলে জরঠরা নড়চড়া করতে পারে না।
 
প্রেম সরালে বাতাসে শ্বাসকষ্ট হয়,
আত্মার আত্মীয়কে ভুলে থাকা যায় না,
তাদের জন্য দোয়া করলে আত্মা প্রশান্ত হয়।
ভালোবাসা চাইলে ভালোবাসা দিতে হয়,
ভালোবাসায় বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে,
সমস্যা হলো, দমবাজরা দমননীতিতে বিশ্বাসী।
 
স্বত্ব মো.আ.হা

কামনা

নিশ্বাস টানলে নিস্তেজরা উজ্জীবিত হয়,
বাতাসে জীবনীশক্তি আছে,
মাথা হেট হওয়ার ভয়ে গাছের জড়ে জল দেই না।
অহর্নিশ দেহাভ্যান্তরে আগুন জ্বলে,
ছায়ায় ধোঁয়া অথবা আগুনের হলক নেই,
আকাশের দিকে তাকালে আমি আমাকে দেখতে পাই না।
জাত বজ্জাত সত্য হলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতের নাম ধাঙড়,
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ওরা পবিত্র করে,
অচ্ছুত হওয়ার ভয়ে তাদেরকে আমরা স্পর্শ করি না।
স্রষ্টায় অবিশ্বাসীরা অভিশপ্ত, তাদের গন্তব্য রৌরব,
শুদ্ধির জন্য প্রায়শ্চিত্ত করি এবং প্রশ্বাসে বিশ্বাস বাড়ে,
মৃত্যুর আগে যেন আত্মা প্রশান্ত হয় এই আমার কামনা।

আমাকে ক্ষমা করো

ক্ষমার আশায় বেঁচে আছি। জানি না ক্ষমার্হ হতে পারব কি না?
আমি এখনও জীবনের অর্থ জানি না। কেমনে বাঁচতে হয় তাও জানি না। অজ্ঞ, অকৃজ্ঞ এবং অশিক্ষিত। স্বর্গে পৌঁছার জন্য প্রতিদিন পথ চলি। রাতেও সচেষ্ট থাকি। ক্লান্ত হই, হই হতাশ্বাস। শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা হয়। বাতাস বিষাক্ত হচ্ছে। এখন আমি বেকার এবং অসুস্থ। খাবার কিনতে হলে পয়সা লাগে। বন্য এবং হিংস্র জীবরাও অনিরাপদ। দোজখ গন্তব্য হতে পারে না। স্বর্গের পথ কোথা থেকে শুরু হয় আমি জানি না।
হে আমার প্রতিপালক, আমাকে পথনির্দেশ দাও। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। সুখ শান্তির মোহে আমি নিজের ক্ষতি করেছি, আমাকে ক্ষমা করো।

অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ

দুনিয়া ঘুরছে। আমি বুড়া হচ্ছি। অন্তত এবং অফুরস্ত সময় আমার জন্য অপেক্ষমাণ।
অপার্থিব সময় আমাকে সত্যের সম্মুখীন করবে এবং অবশেষে অন্তরাত্মা মুখোমুখি হবে।
হে মৃত্যু, তোমার অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ আমি জানি আমাকে নিথর করার জন্য তুমি আসবে।
স্বত্ব মো.আ.হা

চাক্ষুষ সাক্ষী প্রমাণ

আমি বাস্তবিক চিন্তা করি, বাস্তবতা দেখে আমি শিখি এবং সাবধান হই।
নেংটা হয়ে নাচানাচি করা যায়, বাস্তবিক হতে হলে সাবধান হতে হয়। বাস্তবে কী হচ্ছে তা থেকে শিখতে হয়। আমরা মানুষ। অন্য সব জীবের মতন আমরা জীব। মানুষের বিবেক আছে, আছে বুদ্ধি। অনেকের বিবেক বিকৃত হয়। মানুষের মাঝে অনেক নির্বোধ আছে। সবচাইতে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, অদৃশ্য শত্রু। যে শত্রুকে আমরা দেখি না, এমনকি অনুভবও করতে পারি না। আমাদের দেহে ষড়রিপু আছে। ষড়রিপুকে অদৃশ্য শত্রু নিয়ন্ত্রণ করে, যা আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাই না। হাঁইহুই হুজুগে কোনো কাজ হয়নি এবং হবেও না। আত্মশুদ্ধি করতে হলে ষড়রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
“তুই আমার ধর্মের মা আমারে ছাইড়া দে।” এই সংলাপ আমি একদিন বলেছিলাম। খুলে বললে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে। আমি তখন ক্যাবিং করতাম। দিনের ১ টায় চার নারী আমার গাড়িতে উঠেছে তাদেরকে ওয়েস্টএন্ড পৌঁছে দিতে হবে। আমি চালাতে শুরু করলে হঠাৎ একজন আমাকে পিছন থেকে জড়ি ধরে খিলখিল করে হাসতে শুরু করে। আমি চিৎকার করি এবং পলকে রেডিও হাতে লয়ে বলেছিলাম, এই বেটা, ইতাইনতে আমারে হাতাইলার।
কন্ট্রলার খিলখিল করে হেসে বলেছিল, মাইনষে পায়না আর তুমি চিল্লায়রায়নি?
তার কথার জবাব না দিয়ে হেঁকে বলেছিলাম, আমার গায়ে আবার হাত দিলে গাড়ি থেকে বেরিয়ে চেঁচামেচি শুরু করব।
বুড়ির ঘরের বুড়ি খিলখিল করে হেসে বলেছিল, এটা লন্ডন শহর। তোর কী হয়েছে?
আমি তখন দাঁত কটমট করে বলেছিলাম, আমার বউয়ে জানলে কল্লা কেটে ফেলবে। এখন গাড়ি থেকে বেরিয়ে যা।
অন্য নারীরা সবিনয়ে বলেছিল, দয়াকরে আমাদেরকে পৌঁছে দাও আর ঢং করবে না।
তা নাকি ঢং ছিল?
এখন আমার প্রশ্ন, বুড়ি না হয়ে আমি জড়িয়ে ধরলে কী হতো?
দেশে আসলে কী হচ্ছে তা বুঝতে হলে কয়েক হায়ন যাবে। দেশে এখন হুজুগ এবং হিড়িক চলছে।
আমাদেরকে সাবধান হতে হবে। একসাথে স্কুল কলেজে লেখাপড়া এবং কাজ করা এক বিষয়। রাতের বেলা একসাথে আড্ডাবাজি এবং ক্লাবিং অন্য বিষয়।
মনে রাখবে, ক্রাক কোকের অনেক দাম। কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়। ক্লাবিং করে থানায় যেয়ে ধর্ষণে মামলা করলে থানার লোকরা হাসাহাসি করবেই। কারণ, ষড়রিপুর এক রিপুর নাম কাম!

মারামারি করলে নাক ফাটে দাঁত ভাঙে। ধর্ষিত হলে একটা জীবন নষ্ট হয়। বিকৃত বিবেকের মানুষ অসহায়ের সর্বনাশ করে। আবালবৃদ্ধবনিতারা অসহায়। মানা না মানা তা অন্য বিষয়। আবালবৃদ্ধবনিতার নিরাপত্তার জন্য আইন, কিন্তু আজকাল অপরাধিরা আইন ব্যবহার করে। সমাজ সবার জন্য হলেও সুশীলরা হলো সমাজের হর্তাকর্তা। সু শীল শব্দের অর্থ হলো সুন্দর ক্ষুর।
ধর্ষিতরা মামলা করতে গেলে চাক্ষুষ সাক্ষী প্রমাণ দিতে হয়। কেমনে কী হয়েছে তা বিশ্লেষণ করতে হয়।
আপনাদের মত আমিও চিৎকার করে বলতে চাই, ধর্ষণের বিশ্লেষণ কেমনে করবে? আমিও ধর্ষককে হত্যা করতে চাই। কিন্তু সমস্যা হলে, ধর্ষকের চাক্ষুষ সাক্ষী প্রমাণ পাওয়া যায় না, কিন্তু হত্যার চাক্ষুষ সাক্ষী প্রমাণ পাওয়া যায়।

অবশেষে বলতে চাই, আমার বোন, ভাগনি, মেয়ে নাতনি আছে। আমার মেয়ে সপ্তায় দুইদিন কাজ করে। আমি কাজ ছেড়ে মেয়েকে এগিয়ে আনার জন্য যাই। আধুনিকতায় আমি বিশ্বাস করি না। আমি আল্লাহে বিশ্বাস করি।

আমাকে বকাবকি করে কোনো লাভ হবে না, সাবধান হলে সবার মঙ্গল হবে।

দেশি স্টাইল

আমার মত দরদি জগতে আর নাই। আমার মত উত্তম ভাব প্রকাশক জগতে আর নাই। আমার মত ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক জগতে আর নাই। আমার মত বুদ্ধিমান জগতে আর নাই। আমিই সর্বোত্তম। এই হলো দেশি স্টাইল! স্বস্ত মো.আ.হা

জীবন দর্শন

কারু কাছে কিছু থাকলে, তার মনে হারাবার ভয় থাকে। আমার কিছুই নেই, বিধেয় মনে হারাবার ভয়ও নেই। আমি জানি আমি যে কাংগাল। কাংগালের মনে হারাবার ভয় থাকে না। কাংগালকে কিছু দিলে, দাতার মন স্বস্তি লাভ করে। আমি তার দয়ার কাংগাল যে সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করেছেন এবং শান্তি স্বস্তির এক মাত্র মালিক।