কৃচ্ছ্রসাধন

আজ আমি উপাসনায় বসিনি, ওদের ভুষ্টিনাশ করার জন্য অনশন করতে চাই,
আমি ততক্ষণ পর্যন্ত পানি স্পর্শ করব না যতক্ষণ পর্যন্ত ওরা আত্মসমর্পণ করেনি,
আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকব যতক্ষণ পর্যন্ত ওরা তিক্ত সত্য বলেনি,
আমি ততক্ষণ পর্যন্ত ভাতে হাতে দেব না যতক্ষণ পযর্ন্ত ওরা লুন্ঠিত সম্পদ ফিরিয়ে দেয়নি।
ছলবলে দুর্বলের সম্বল চুরি করে ওরা বিত্তশালী হয়েছে,
অনাথ অসহায়কে হতাশ্বাস করে ওরা আশ্বস্ত হয়েছে,
বিশ্বাসীর পিঠে চাকু মেরে ওরা বিশ্বে বিশ্বস্ত হয়েছে,
বাতাস দুষিত করে ওরা নির্দোষ হতে চায়,
পানিতে বিষ ঘুলে ওরা নিষ্পাপ হতে চায়,
ধর্মের নামে ওরা বারবার মানবতাকে ধর্ষণ করেছে,
আমি এখন শেষ দেখতে চাই, জানতে চাই ওরা কেমনে এত শক্তিশালী হলো?
ওরা আমাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে, ঘুমে বেঘোর হয়েও স্বপ্ন দেখতে ভয় হয়,
পানি এবং বাতাস স্বর্গেও আছে, তাইলে মর্তে কেন এত হাঁসফাঁস?
ভুখ লাগলে কেউ কি আবেগপ্রবণ হয়? আবেগ শব্দের অর্থে কিচ্ছু পাইনি,
বিধায় আবেগকে বাঘের সামনে বেঁধেছি, দেখি কদিন বাঁচে?
আমি চেষ্টা করে দেখেছি, আবেগপ্রবণ হলে বিদ্রোহী হওয়া যায় না,
বিদ্রোহী হতে হলে হাতে তেগ নিতে হয়, আমি হন্তা হতে চাই না,
নীরব দর্শকের মতো দূরে দাঁড়িয়ে ওদের শক্তিমত্তা দেখতে চাই।
আমি জানি মৃত্যু আমার সাথে আছ, আমি মিথ্যা বলতে চাই না,
প্রলুব্ধ হয়ে মরলে নরকের আগুনে জ্বলত হবে, আমি নির্লোভ হতে চাই,
সত্যাসত্য জানার জন্য কৃচ্ছ্রসাধন করতে চাই।

4 Replies to “কৃচ্ছ্রসাধন”

  1. অসাধারণ কাব্য।
    মুগ্ধতা রইল, ভালোবাসা রইল এমন ইচ্ছায়।
    আমি যেনো কবিতার মতো করে জীবন পার করতে পারি, তবেই যে আমি থাকবো পূর্ণতায়।
    ভালোবাসা রেখে গেলাম, ভালোবাসা যেনো না হয় কভু অসাধ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *