আমীরুল মু’মিনীন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)

খলিফাতুল মুসলিমীন ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন শাম থেকে প্রত্যাবর্তন করে মদীনায় আগমন করলেন, মানুষের অগোচরে চুপিসারে বেরিয়ে পড়লেন প্রজাদের অবস্থা জানার জন্যে। ঘুরতে ঘুরতে তিনি একটি তাবুর ভেতরে একজন বৃদ্ধাকে দেখতে পেলেন। সেই তাবুকে লক্ষ্য করে তিনি সামনে এগোলেন।
.
.
ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে বৃদ্ধা চিনতে পারেনি, তাই বৃদ্ধা স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করে উঠলো, এই যে! ওমর কী করছেন?
-তিনি শাম থেকে নিরাপদ ফিরে এসেছেন।
- আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাঁকে যেনো কোনো মঙ্গল দান না করেন!
- কেনো হে বুড়িমা?! 
- তিনি যখন থেকে খিলাফতের মসনদে আসীন হয়েছেন, সেদিন থেকে আমি তাঁর পক্ষ থেকে কোনো দিরহাম-দীনার দান হিসেবে পাইনি! 
-আপনি এই জায়গায় আছেন, ওমর কি তা জানেন? 
- সুবহানাল্লাহ! যদি কেউ মানুষের শাসনভার গ্রহন করে, তাহলে সে তার রাজ্যের পূর্ব থেকে পশ্চিমের মধ্যকার হালত জানতে পারবেনা- তা তো আমার জানা নয়! 
.
ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কেঁদে ফেললেন! অতঃপর নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, হায় ওমর! তোমার বিরুদ্ধে বৃদ্ধারাও অভিযোগ করছে! 
.
অতঃপর ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, হে আল্লাহর বান্দী! ওমরের পক্ষ থেকে কৃত অন্যায়কে আপনি আমার কাছে কত টাকার বিনিময়ে বিক্রি করবেন? আমি ওমরকে দোযখ থেকে বাঁচাতে রহম করবো।
- তুমি আমার সাথে মশকারি করছো?! তোমার উপর যে আল্লাহ রহম করবেন- তার নিশ্চয়তা আছে? 
- আমি মশকারি করছিনা।
.
এভাবে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বৃদ্ধার সাথে দর কষাকষি করতে থাকলেন। শেষপর্যন্ত পনেরো দীনারের বিনিময়ে খলিফা ওমরের কৃত অন্যায়কে খরিদ করে নিলেন।
.
ইত্যবসরে সেখানে আগমন করলেন হযরত আলী ইবনে আবু তালিব ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)। উভয়েই ওমর রা. কে সালাম দিলেন- আসসালামু আলাইকুম হে আমীরুল মু’মিনীন! 
.
.
সাথে সাথে বৃদ্ধা মাথায় হাত দিলো! একপ্রকার ভড়কে গিয়ে বললো, হায় আমার বরবাদী! আমি আমীরুল মু’মিনীনকে তার সামনেই অপমান করলাম! 
- কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন।
.
অত:পর ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বিনিময় পরিশোধ করতে চাইলেন, কিন্তু পরিশোধ করার মত কোনো টাকা-পয়সা পেলেননা। অতঃপর তাঁর তালিযুক্ত কাপড় থেকে একটুকরো তালি ছিঁড়ে সেখানে লিখলেন-
‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। ইহা ওমর যে তাঁর কৃত অন্যায়কে পনেরো দীনারের বিনিময়ে খরিদ করেছেন, সেটার চুক্তিপত্র। সুতরাং হাশরের ময়দানে আল্লাহর সামনে ওমরের দণ্ডায়মান অবস্থায় বৃদ্ধা যে অভিযোগ করবে, তা থেকে ওমর মুক্ত। অমুক বৃদ্ধার পক্ষ হতে এই চুক্তিপত্রের সাক্ষী হলেন আলী ইবনে আবু তালিব ও আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ।’
.
.
আবু তালহা রা. বলেন, অতঃপর তিনি চুক্তিপত্রটি আমাকে দিলেন, এবং বললেন, যখন আমি মৃত্যুবরণ করবো, তখন ইহা আমার কাফনের ভেতর রেখে দিবেন। এই চুক্তিপত্র নিয়েই আমি আল্লাহর মোলাকাত করবো।
.
সূত্র-
.
* সিমত্বুন নুজূমিল আওয়ালী। আল্লামা আব্দুল মালিক আল-ঈসামী।
* রিয়াযুন নাযিরাহ ফী মানাক্বিবিল আশারাহ। ইমাম ত্বাবারী রাহ.।

bookorebook

Writer and publisher