কবিতার পাতা


১৯৫২ এবং ১৯৭১ সেই কবে গত হয়েছে,
চাঁদ সূর্য এখনো আছে।
বড় লেখক হতেই হবে।
ভাষা-ব্যাকরণ একটা বিষয় হলো?
দলের দালালি করলে সব দখলে আসে।
বোকাকে বোকা বানাতে হলে বুদ্ধি খাটাতে হয় না।
কত রংঢং দেখলাম এখন কবরের চিন্তায় চিন্তিত।
সাগরের পানি পান করা যায় না কিন্তু বৃষ্টিজলে জীবন থাকে।
থাক, আমার সম্পদ আমার সম্পুটে থাক,
নষ্টরা নষ্টামি করে, আমি পথভ্রষ্ট হতে চাই না।
জীবনে যথেষ্ট পাপ করেছি।
বকবক করে পায়রা হওয়া যায় না,
এত সব বুঝিনা, বুঝলে বুঝদার হতাম,
বুঝিনা বলে আমি অবোঝ হয়েছি।


হা হা হা, আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করো।
আমার উচ্চারণ হয় না,
আমার জীবন ভুলে ভরা।
হা হা হা! হ্যাঁ আমার সব কিছুতে ভুল।
কারণ আমি সত্য বলতে ভয় পাই না।
তবে এখন ভয় হয়, ভয় হয় মানুষকে,
যারা ভেড়ুয়ার মতো বাঁচতে শিখেছে।
মরো! মরে শেষ হও। এমন বাঁচার চেয়ে মরা ভালো,
অন্তত বাংলার বুক থেকে বিষ ভার কমবে!
আমার কবিতা পড়ার মানুষ নেই, নেই আমার গান শুনার মানুষ।
আমার লেখা বই পড়ার মত মানুষ দেশে নাই।
কারণ, আমি নির্ভীক লেখক।
মার পাটকেল। ককটেলের মত ফাটবে!
হা হা হাসতেও পারি না, কষ্ট হয়।
হে বাংলা! তোমার বীর সন্তানরা মরে শেষ হয়েছে।
বাঁশের লাঠিতে ভর দিয়ে ল্যাংড়ারা হাঁটে,
বাঁশের লাঠি দিয়ে লোহার সাথে মারামারি করা যায়,
দেশে এখন আর লাঠিয়াল নেই, বাঁশঝাড়ে ঘূণে ধরেছে।
বহ্বাড়ম্বরে চাঁইরা চুনোপুঁটি খায় ভেজে,
ভ্রমান্ধ ভ্যাদাদের ভ্যানভ্যান শুনে ভোকো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েছে।


বালিতে আমি হেঁটেছিলাম, পায়ের চিহ্ন নেই,
বাতাস আমার গায়ে লেগেছিল, সুবাস বিলিন হয়েছে।
তবুও আমি হেঁটেছিলাম, প্রমাণ আছে।


চতুষ্পদী কবিতা

ইঙ্গবঙ্গ ভাষায় কথা বলতে পারি আমি ইচ্ছানুযায়ী ইকেবানায় বনফুল সাজাই,
ইঙ্গুদীর বিচি পিষে তেল বার করতে পারি আমি লাউ দিয়ে ঢুগঢুগি বানাই।
ইন্দিবর কিঞ্জলে আল্পনা আঁকি আমি ইত্যাকারে মান্দারের তুলায় মনকে বসাই,
ইত্যনুসারে লিখে গান ইত্যবসরে গেয়ে আমি পছিয়াঁ বাতাসে সুর দেই ভাসাই।


জীবন দর্শন

মানুষের বিবেক যখন বোকা হয় তখন সে বাঘের মত চলাফেরা করে আর বলে, আমি বুদ্ধিমান। আমি সব বুঝি এবং সব জানি। এই সব বোকারাই আজকাল হর্তাকর্তা। এই সব বোকারা বুদ্ধিরঢেঁকি হয়ে বিদ্যার সাড়ে বারটা বাজাচ্ছে। ধর্ম এবং সভ্যতা নিয়ে আজেবাজে কথা বলে। নারী যখন নেংটা হয় তখন পুরুষ হীংস্র হয়। দোষ কিন্তু পুরুষের নয়। কারণ জীবজগৎ নিয়ে ধেয়ান চিন্তা করলে প্রমাণ পাওয়া যায়, মানুষ হলো সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। আমার বকবক করার বিষয় হল জীব। জীবের জীবন সুন্দর করার জন্য ধর্ম এবং সভ্যতার বিস্তার হয়েছে। সমস্যা হলো আমরা লেখা পড়া করে অসভ্য হচ্ছি। যার মন যা বলে তা বকি। আমি কি মিথ্যা বললাম?


আমার মনে একটা মসজিদ আছে,
ধারিতে বসে আমি শমদমে নাম জপি,
উপসনায় তন্ময় হয়ে বৃষ্টিতে অভিশাপ দেখেছি,
জ্যৈষ্ঠের ঠাঠা রোদ্দুরে আশীর্বাদ স্পর্শ করেছি,
পাপমোচনের জন্য পাপিষ্টকে কাঁদতে দেখেছি,
আমি আত্মশুদ্ধির জন্য সাষ্টাঙ্গে স্রষ্টাকে সেজদা করেছি।


শব্দের ষোলোকলা

শব্দ এবং গুপ্তধন! সবার জন্য নয়। সন্ধানীরা সন্ধান করে।
কারো তো জীবনই ফুরিয়ে যায় কিন্তু গুপ্তধন হাতে পায় না।
আর যে পায় সে কাউকে বলে না।
গুপ্তধন কারো জন্য আশীর্বাদ হলেও কারো জন্য অভিশাপ।
শব্দ!
শব্দে আমি শাব্দিক হয়েছি।
মনের ভাব মনের ভাষায় প্রকাশ করার জন্য,
উঠতিবয়সে আমি শব্দান্বেষী হয়েছিলাম।
শব্দের কারণে নষ্টামি থেকে দূরে থাকতে সক্ষম হয়েছি।
সংলাপের দিগ্দিগন্তে দিগ্ভ্রান্ত হলে,
শব্দরা আমাকে দিগ্দর্শন করে,
শব্দরা আমার জন্য দিগ্বালিকা।
আমি বিমনা হলে মানসী খিল খিল করে হাসে,
দিগ্বিদিকে শব্দ এবং প্রতিশব্দ প্রতিধ্বনিত হয়,
শব্দের প্রতিবিম্বে কামিনীর কামনা লুক্কায়িত থাকে,
শব্দের তুকতাক বুঝার জন্য আমি যোগাসনে বসি,
প্রণায়ামে শব্দের ষোলকলা শিখে তাপস হয়েছি,
তপস্যা করে গুপ্তধনকে খাতার পাতায় লুকিয়েছি,
শদমদে নাম জপে আমি জাপক হয়েছি সাহিত্যসাধক।


কোন একদিন কলমি লতাও থেমে যায়,
আর বাড়তে পারেনা,
গোলাপও একদিন শুকিয়ে ঝরে পড়ে,
কবির আয়ূ ফুরিয়ে লেখা থামলেও,
পাঠকের মনের সাথে কবিতা কথা কয়।
কলমের কালি শেষ হয় কিন্তু লেখা শেষ হয়না,
কারণ কালি শেষ হলে নতুন কালি ভরতে হয়।
লেখা শুরু করলে থামা যায়না,
কারণ লেখা দুঃখ বিরহকে করেছে জয়।
ফজরের নামাজ


দেশ

বাংলাদেশের নীতি এবং রাজনীতি আমি একদম বুঝি না। ৫২ এবং ৭১, এই দুইটা বছরে জাতে বাংলাদেশি নিঃশেষ হয়েছেন। অনিঃশেষ যে আছে তার কোনো প্রমাণই নেই। আর তা বারংবার প্রমাণিত হয়েছে। আমার চিন্তা মিথ্যা হলে চিহ্নিত দেশদ্রোহী কেমনে মুক্তিযোদ্ধা হয়? আমি জবাব চাই! কিন্তু আমি এও জানি কেউ জবাব দিতে পারবে না, কারণ বাংলাদেশে জাতে বাংলাদেশি আর নেই।


ফোঁপর দালাল

দুয়ার জানালা খুলে দিয়েছি, স্বাগতম।
তব শব্দ এবং বাক্যে আমি বিমোহিত!
কাব্যকাননের প্রবেশ পথ সুগম করার জন্য ছোট কালে শপৎ করেছিলাম,
নিরাশ হলেও আমি আশাবাদী।
কবিতা লিখে আমি কালি দিয়ে হাত কালো করে মুছে ছিলাম জামায়।
বিমনা মন, তুমি হারিয়ে কোথায় যাবে?
মনের মানুষ যে বসে আছে ধ্যানে।
সাদা কাগজে হাত দিলে হয়ে যায় কাব্য, তা আমি জানি,
নর্তকী আসে না আমার কাননে মনমায়ুরী নাচে।
আখি মেলে চেয়ে দেখো, চকচকে লেখা কত স্বচ্ছ।
নয়ন জলে শুকনো খাল ভরেছি, খাতার পাতা দিয়ে নৌকা,
মলাট দিয়ে সাঁকো বানিয়েছি,
হে কাব্যরসিক আসো, তোমারাশে বসে আছি।
জীবনে অনিহা এসেছিল, তোমাদের ভালোবাসায় আমি উজ্জীবিত হয়েছি।
দুঃখকে বরণ করলে সুখ নাকি উরে ঠানে, দুঃখবিলাসি হয়ে জেনেছি।
কারণ সেই মৃত্যু গুলোর কারণে অনেক জীবন জীবন্ত হয়।
সাধক কবির কবিতা পড়লে আমি অধমের মনে থাকে না কোন যন্ত্রণা।
আহা, কতই না রসে রসে অধররস গিলিয়ে আমাকে করলে নিরস।
চাটুকার পাল্লায় পড়া মানে উপরোধে ঢেঁকি গেলা,
মনটা হয়েছে ফোঁপর দালাল।।


জীবন উপভোগ করতে হলে চিন্তাসাধনা করতে হয়,
টাকাওয়ালারা জীবন উপভোগ করতে পারে না।


খাতার পাতায় প্রথম লাইন লেখার পর দ্বিতীয় লাইনের জন্য যোগসাধনা করতে হয়।
কখনো যোগ চলে যায়।
কবি যোগী হয়, আত্মা বিয়োগ হয়, কবিতা শেষ হয় না।
অসমাপ্ত কবিতা।


হাহাহা হাসি পায়,
রমরমা কারবারে দেশিরা রমনায় বসে পান্তা ইলিশ খায়,
হাভাতেরা ভাত পায় না, ইলিশ বিক্রি হয় লাখ টাকায়।
এক খাবলা ভাতের দাম হাজার টাকা,
ওরা কারা যারা কিনে খায়?
আহ! আমার কষ্ট হয়,
সর্বহারার ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে ঝড়ো হাওয়ায়,
দাতা নেই দেশে, লালচে চোখে লালচিরা হাসে,
কালবৈশাখীর দাপটে অনাথিনীর সন্তানরা অসহায়।
বৈশাখ ফিরেছে সাথে এনেছে কালবৈশাখী!


মানুষের সাথে অন্য জীবের তুলনা করলে মারাত্মক ভুল হবে।
মানুষ তা করতে পারে যা অন্য জীব করতে পারে না।
আর তা হলো চিন্তা করে অন্যের ক্ষতি।
চাঁদ হারিয়েছে তাতে কী হয়েছে,
চোখের সামনে তো চাঁদনী আছে।


কলম দাও

স্বাধীনতার খোঁজে বেরিয়ে আমি বন্দি হয়েছি।
লোহার দেয়াল আমার সামনে।
আমি অবাক, নির্ভীক হয়েও নির্বাক।
স্তম্ভিত তবে নিশ্চল নয়।
আমাকে একটা কলম দাও।
আমি ক্ষোভ প্রকাশ করতে চাই।
আমি স্বাধীনতা চাই। সত্য স্বাধীনতা।


লক্ষ্মীপ্যাঁচা

বৈশাখের বিকালে বালুচরে বসতাম যখন,
মনের বার্তা মানসী বাতাসের আঁচলে লিখে দিতো,
বিমনা হয়ে আমি আকাশ নীলে তাকিয়ে তা পড়তাম,
মৌচাকে ভ্রমরী বসতে চাইলে আমি ধমক দিয়েছিলাম,
পাপিয়া খিল খিল করে হেসে বলেছিল প্যাঁচা এত প্রিয় কেন?
আমি তখন চিন্তিত হয়েছিলাম, বলেছিলাম প্যাঁচা আসলে লক্ষ্মী।


তির্যকবিতা

বিষবৃক্ষের ফুলের সুবাসে ভ্রমরী উদাসিনী হয়,
রূপজেল্লার ঝলকে মনে ফোসকা পড়লে তনে না সয়।
আমি দেখেছি কানা মৌমাছি মৌবনে ভনভন করে,
কোকিলার কু ডাকে কাটা গায়ে নুনের ছিটা পড়ে।


মাইল্লার পাল!

আমরা ব্রত করেছি,
সমাজকে সুশৃঙ্খল করার জন্য আমরা সাধনা করব আত্মত্যাগ।
আমাদের সাথে লাগালাগি করলে আমরা গলাগলি করব।
আমাদের কোমর ভাংতে চাইলে, এমন তাবিজ দেব, কোমর টেনে হাঁটতে হবে।
নিশ্চয় জানো, কামেলপিরের ফুঁ-তাবিজে এক শো ভাগ কাম করে।
আমাদেরকে ক্রসফায়ারে ফেলতে চাইলে গুণ করে বাণ মারব।
খামোখা আমাদেরকে জেলহাজতে নিলে তুকতাক শুরু করব।
আমাদেরকে বিষপান করাতে চাইলে পড়াপানি পান করাব।
নিজের লাভের জন্য বাতাস দুষিত করলে ঝাড়ফুঁক শুরু করব।
আমাদের দিকে রাহুদৃষ্টে তাকালে আমরা আত্মদৃষ্টে তাকাব।
আমাদের সাথে অবিচার কারলে আমরা অভিচার করব। জান তো!
জিন চালান করলে ঘুমখানি হারাম হয়ে যায়।
আমাদের ভাইরা আমাদের সাথে আছেন।
আমরা মুল্লা অথবা অবিদ্বান নয়।
বিশ্বের বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা করে আমরা বিদ্বান হয়েছি।
আমাদেরকে বাজারে পাবে, পাবে মাজারে। আমরা এক আল্লাহ মানি।
এই সমাজে ভালো মানুষের ঠাই নেই।
প্রতিষ্ঠিত হতে হলে সুশীল হতে হয়।
জন্মাধিকার আদায় করে ঠিকে থাকার জন্য আমরা মাইল্লার পাল হয়েছি।
জানতো! মাইলে ধরলে জানের কাম সারা হয়।


দেশ প্রেম

আজ কত দিন হয়, বিহানে আমি আরক্ত সূর্য দেখিনি,
আজ অনেক দিন হয় আমি সত্য স্বাধীনতা উপভোগ করিনি,
আজ কত দিন হয় আমি ফজরের নামাজ মসজিদে যেয়ে পড়িনি,
তাই তো আমি আরক্তিম সূর্য দেখিনি,
আমি এক স্বাথর্ান্ধ মুসলমান,
নিজ স্বার্থ-সাধন কল্পে ন্যায়-অন্যায় বিচার করি না,
অন্যায় দেখেও দেখি না,
সত্য মুসলমান হতে পারলাম না আমি সত্য দেশপ্রেমীক হতে পারিনি,
শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশ এবং ভাষা পেয়েছি,
অন্যরা ভুলে গেলেও জাতে বাংলাদেশিরা ভুলিনি।


বাংলা এবং দেশ! দুইটা শব্দের জন্য জানবাজি ধরা হয়েছিল।
রক্তে জল রক্তাক্ত হয়েছিল। ৫২ এবং ৭১ রে। কিন্তু বাংলা এবং দেশ এখন অসহায়।
আহ! কষ্ট হয়। কষ্টে অন্তর ক্লিষ্ট হয়। কিন্তু কিছুই করার নেই।
বাংলা এবং দেশ শব্দ এখন আর কেউ ভালোবাসে না।


সুখমন্ত্রের জরিওয়ালী

কামনার গন্তব্য তুমি আমার কাব্য কৃতির কৌশল এবং জীবনীশক্তি,
আমি জানি তুমি আমার স্বর্গসুখ, বরারোহা হে কমল কান্তিমতী!
বরনারী তুমি, তোমার হাত ধরে সুখবাসরে যখন কণ্ঠলগ্ন হয়েছিলাম,
তখনি বৈমনস্যের বংশবিলোপ হয়েছিল দুঃখ কষ্ট বৈবর্ণ,
তোমার বাহুদ্বয় বেদনানাশক লতা গুলঞ্চ, কবিতার রস মাধুর্য,
অপরূপ তোমার রূপজেল্লায় আদাড় মন আলোকিত হয় পবিত্র,
বিমনা হলে বিতনুর বিলোভন বিল্ব বিলোল করে মোরে বৈক্লব্য,
বৈচিত্র ভাবনায় বৈচিত্ত্য হই বৈকল্য, কাব্যকাননে নির্ভীক কবি বিশঙ্ক,
বৈধ তনুমিলনে বৈজয়িক হই আমি বৈবাহিক সুখে বৈপ্লবিক এবং বিশদ,
তোমার দেহ সৌরভে মন কলবিঙ্ক হয় গো প্রেম আমার জন্য আয়ুঃপ্রদ।
তপোবনে বসে তপোবলে তপস্বী হতে চেয়েছিলম তপোধনে নিধি,
তপনীয় আমি তপশ্চর্যায় তন্ননস্ক হয়েছিলাম তপব্রতী না কি বকবৃত্তি?
বাসর রাতে বঁইচি আর অধরমধু মাতোয়ালা করেছিল মোরে বাদন্য বয়স্বী,
সুখমন্ত্রের জরিওয়ালী কষ্টকে অতিষ্ট করতে পারো গো তুমি তন্নিমিত্ত তন্বী।


লেখালেখি করে কিছু না পেলেও আমি সুন্দর একটা জীবন পেয়েছি, এবং এতেই আমি খুশি।


মানুষের সাথে অন্য জীবের তুলনা করলে মারাত্মক ভুল হবে। মানুষ তা করতে পারে যা অন্য জীব করতে পারে না। আর তা হলো চিন্তা করে অন্যের ক্ষতি।
মানুষের সাথে অন্য জীবের তুলনা করলে মারাত্মক ভুল হবে। মানুষ তা করতে পারে যা অন্য জীব করতে পারে না। আর তা হলো চিন্তা করে অন্যের ক্ষতি।


একটা দেশের নাম বাংলাদেশ।
দেশের সীমানা সাগরে শেষ হয়েছে।
লবণাক্ত জলে রক্ত মিশলে কী হয় আমি জানি না।

যে দেশে অন্যের জয়গান হয় সে দেশে অন্যায় বিজয়ি হয়।


শব্দের ষোলোকলা শিখতে হলে শব্দের অর্থ জানতে হয়


শব্দে আমি শাব্দিক হয়েছি, শব্দ হয়েছে আমার সম্পদ।


শব্দের ষোলোকলা শিখতে হলে শব্দের অর্থ জানতে হয়।


নাও ভাটিতে ভাসলে পাল নামাতে হয়, নইলে আহাল হয়।


সাহিত্য চিন্তার প্রতিবিম্বপাতে সাহিত্যিক ওজোগুণ প্রতিবিম্বিত হয় সাহিত্যিকের ভাব প্রকাশ।


বাঁশঝাড়, হে বাঁশঝাড়, তুমি হয়তো জাননা আমি কয়লার খনি পেয়েছি, বেশি বাড় বাড়লে আগুন লাগাব!


যাদের বিবেক বিকৃত হয়েছে, যাদের মাঝে আত্মমর্যাবোধ নেই,
তাদের কথা মন্তব্যে রাগ অথবা অভিমান করা আহ্মকের কাজ।


ও মন তুমি শুদ্ধ বাংলা শিখরে,
মাতৃভাষায় কথা বললে আনন্দ পাবে অন্তরে।
আত্মশুদ্ধি করতে পারলে মাতৃভুমির কদর বোঝবে,
আয়নায় দেখে নিজেকে চিনো তুমি পরে না চিনলেও চলবে।


স্বাধীনতা মানুষের বিবেকের মাঝে লুক্কায়িত। তাকে খোঁজতে হলে বিবেকবান হতে হয়। বিবেকহীনরা স্বাধীনতার ছায়াও দেখতে পায় না। আমার বিবেক আমাকে একবার দংশন করলে আমি ক্ষেপেছিলাম। তখন আমাকে কানে কানে বলেছিল, তুই কি পাগল হয়েছিস, দেখতে কি পাস না? আমি যে অনাথ আর অনাথিনীর টুকনিতে থাকি! আমি তখন দোনোমনো করে বলেছিলাম, তাই তো দুটানে আছি।


কী মায়া লাগিল রে মনে আমার কী ভেল্কি লাগিল চোখে,
না ঘুম না খানি, না দেয় দানা পানি, কুলুপর আঁটা মুখে।


© মোহাম্মাদ আব্দুলহাক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *